১৫ই আগস্ট আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে শোক দিবস পালন হয়ে আসছিল। তবে গত দুই বছর ধরে এই দিবস আর পালিত হচ্ছে না। এই বছর দুই আগ-পর্যন্ত যে শোক দিবস পালিত হচ্ছে আর এখন যে পালিত হচ্ছে না, দুইটার ভেতরেই রয়েছে অদ্ভুত ধরনের মিল। দুই ক্ষেত্রে একটা জবরদস্তির ব্যাপার জড়িত। একদল আছে যাদের বক্তব্য ছিল তুই শোক পালন করবি না কেন, তোকে শোক পালন করতেই হবে। আর এখন একদল এসে হাজির হয়েছে যাদের বক্তব্য হচ্ছে তুই ক্যান শোক পালন করবি, তুই শোক পালন করতে পারবি না। তোকে শোক পালন করতে দিবো না।
২৪ সালে হাসিনা সরকার পালানোর পরে যখন প্রথম ১৫ই আগস্ট এলো তখন ঢাবির হলে থাকা একজন ছাত্র তার বিগত বছরের অভিজ্ঞতা জানাল এই ১৫ই আগস্টকে কেন্দ্র করে। সকাল থেকে শুরু হলের প্রোগ্রাম শুরু হত এবং একটার পর একটা প্রোগ্রাম চলত। শেষ হত রাধ অবধি। হলে থাকা, বিশেষ করে গনরুমে থাকা ছাত্রদের সেখানে বাধ্যবাধ্যতামূলক ভাবে অংশগ্রহণ করতেই হত। এটা কি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই ছিল? সব জায়গাতেই ঠিক একই নিয়ম ছিল। তোমাকে শোক পালন করতেই হবে। তোমাকে শোকের অনুষ্ঠানে গিয়ে হাজির হতেই হবে। নয়ত এই ব্যাপারটা খেয়াল রাখা হবে, মনে রাখা হবে এবং পরে সেটার ফল তুমি ভোগ করবে। এই যে তখন প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানে ঝুলত সবাই কি এটা মন থেকে বা ইচ্ছে করে করত? অবশ্যই না।
আবার এখন যেটা চলছে, সেটা তো সেই একই ব্যাপার। জোর করে মানুষকে এই শোক পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। তখন সেই সময়ে যারা শোক দিবস পালন করত তাদের সবাই অবশ্যই নিজ থেকে এই কাজটা করতো না কিন্তু কিছু মানুষ তো অবশ্যই ছিল যারা নিজ থেকে এটা পালন করত। একটা পরিবারের প্রায় সব সদস্যদের নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেটা আবার দেশের রাষ্ট্র নায়ক এবং বাংলাদেশের রাজনীতির সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির পরিবার, এই দিবসকে শোক পালন করতে চাওয়া তো অন্যায় নয়। রাষ্ট্র এই শোক দিবসকে খারিজ করে দিয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে, সেটা না হয় মেনে নিতে হল কিন্তু একজন মানুষ ব্যক্তিগত ভাবে কেন এই শোক পালন করতে পারবে? কেন তাকে এটা পালন করতে দেওয়া হবে না। কোন ব্যক্তি যারা বর্তমানে দেশে আছে, গুরুত্বপূর্ণ পদে আছে তারা চাইলেও একটা সমান্য স্টাটাস পর্যন্ত দিতে পারবে না। কারণ এখানেই সেই আগের মতই ব্যাপার হবে। আগে যেমন পোস্ট না দিলে, প্রোগ্রামে না গেলে সেটা মনে রাখা হত এখন পোস্ট দিলে কিংবা সামান্যতম শোক প্রকাশ করলেই সেটা মনে রাখা হচ্ছে।

Comments
Post a Comment