ধর্ম পালন

 বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল সাফ জয় করে দেশে ফেরার পর তাদের ছাদখোলা বাসে করে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে আসা হয়। সবাই নারী ফুটবলারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু এক দলের যেন মাথা খারাপ হয়ে গেল! ঠিক সেই সময়েই একজন হাফেজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিল। অমনি দাবি উঠল—মেয়েদের যেহেতু ছাদখোলা বাসে করে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, এখন এই ছেলেকেও ঠিক একই রকম সম্মান দিতে হবে। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কত লেখালেখি! মূল আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়াল—নারীদের যদি ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা দেওয়া যায়, তবে মুসলমান হয়ে কেন একজন কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীকে আমরা এমন সংবর্ধনা দেব না?

পরবর্তী সময়ে সেই ছেলের জন্যও সংবর্ধনার আয়োজন করা হলো; হুবহু এক না হলেও কাছাকাছি একটা ব্যবস্থা তার জন্য করা হয়েছিল। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেই প্রতিযোগিতার কয়েক মাস পরই আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় আমাদের দেশের আরেকজন (কিংবা সেই একই জন) আবারও পুরস্কার পেল। অথচ তখন সেই দলের কোনো উচ্চবাচ্য নেই; সাধারণ সেই জনতাও তখন একদম নীরব! তাহলে আগের জনের বেলায় এত উচ্চবাচ্য ছিল কেন? কারণ, মেয়েদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, তাই সেটার সঙ্গে জোরপূর্বক প্রতিযোগিতা করার জন্য এটা করতে হবে।

এখানে উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় বেশ কয়েকবারই আমাদের দেশের ছেলেরা সুনাম কুড়িয়েছে। তাদের সম্মান জানানোর বিষয়টি নিঃসন্দেহে চমৎকার। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে—না আগে, না পরে, এই ছেলেদের নিয়ে কেউ কখনো এমন মাতামাতি করেছে। নারী ফুটবল দলটিকে নিয়ে সারা দেশের মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে একদল ‘বোকামোল্লা’ এই ছেলেগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।

এবার আসা যাক বর্তমান প্রসঙ্গে। আজ পর্যন্ত আপনারা কাউকে নিজের বাড়িতে কিংবা ছাদে কলেমার পতাকা ওড়াতে দেখেছেন? এমনকি এর আগে যে কতগুলো বিশ্বকাপ হলো, দেশের আনাচে-কানাচে কত ভিনদেশি পতাকা উড়ল, তা নিয়ে কি কাউকে খুব একটা চিন্তিত হতে দেখেছেন? কিন্তু এবার এই মোল্লাদের মাথায় কী যেন ভর করেছে! এবার তারা উঠেপড়ে লেগেছে বিশ্বকাপের পেছনে। খেলা দেখা হারাম, ভিনদেশি দল সমর্থন করা হারাম—এসব বলতে বলতে এবার তারা পতাকার পেছনে লেগেছে। এতগুলো বছর পার হওয়ার পর, এই ২০২৬ সালে এসে হঠাত করে মোল্লাদের মনে হলো—এখন আর ভিনদেশি পতাকা ওড়ানো যাবে না, জার্সি পরা যাবে না। এর বিপরীতে তারা রাস্তায় রাস্তায় কলেমার পতাকা ওড়ানো শুরু করল এবং এটাকে ইসলামের সিলমোহর দিয়ে দিল।

এই মোল্লাদের কর্মকাণ্ডে আপনি ইসলাম ছাড়া বাকি সবকিছুই পাবেন। আপনি মিলিয়ে নিয়েন, যেই না বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে, এই মোল্লাদের কলেমার পতাকার প্রতি প্রেমও উবে যাবে। এদের ধর্ম পালন কেবল অন্যের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করে; অন্যকে ছোট করার কিংবা দেখানোর জন্যই যেন এদের ধর্ম পালন!



Comments