প্রতি বছর পহেলা বৈশাখের কাছে ফতুয়াবাজদের পরাজয় দেখতে ভালো লাগে। পহেলা বৈশাখ হারাম বলতে বলতে এরা এপ্রিল মাসের শুরু থেকে যেভাবে হই তোলে তাতে মনে হয় যে এবার আর কেউ পালন করতে যাবে না। অথচ দেখা যায় প্রতিবার পহেলা বৈশাখে এদেশের মানুষ সেই সব ফতুয়াকে কাঁচকলা দেখিয়ে ঠিকই বৈশাখ পালন করছে। যারা কাল বাইরে বের হয়েছেন তারা জানেন। সামনের বারও এইভাবেই মানুষ পহেলা বৈশাখ পালন করবে। এবার একটা মজার ব্যাপার হয়েছে। অনেক বড় বড় ফতুয়াবাজরা পহেলা বৈশাখ নিয়ে কোন কথা বলে নি। মানে আগের বছর যেখানে করা যাবে, হারাম এই টাইপের কথা বলেছে এইবার কিছুই বলে নি। এর কারণটা অনুমান করা কঠিন না। এতোদিন ধরে যে যারা পহেলা বৈশাখের বিরোরীরা করে এসেছে এইবার তারাই বড় ব্যানার করে বৈশাখ পালন করছে। যতই নাম বদলে অন্য নামে করা হোক না কেন, লাউ আর কদু একই জিনিস। সেটা বাংলা নববর্ষ পালন। আপনারা দেখবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ফতুয়াবাজরা বৈশাখের শুভেচ্ছা পর্যন্ত জানাতে শুরু করবে। এই প্রসঙ্গে একটা কথা মনে পড়ল। খুব বেশি দিন আগের কথা না। আমার স্কুলে পড়ার সময় যখন মোল্লারা ফতুয়া দিত, তার ভেতরে একটা ছিল যে ছবি তোলা/ভিডিও করা যাবে না। টিভি দেখা যাবে না। যাবে না মানে যাবে না। টিভি দেখা হারাম। তারপর যখন ইসলামিক টিভিগুলো এল, তখন এটা বদলে গিয়ে হল, টিভিতে ভাল কিছু দেখা যাবে, মানে ইসলামিক টিভিগুলো দেখা যাবে, খারাপ কিছু দেখা যাবে না। তারপর যখন ফেসবুকের প্রচার প্রসার হল, ইউটিউবে মনিটাইজেশন এল তখন এই সব কথা আর কেউ বলে না। ছবি তোলা নিয়ে কোন ফতুয়াবাজদের কোন কথা বলতে দেখেন এখন? বরং এখন তারা নিজেরাই ছবি তুলে আপলোড দিচ্ছে। ঠিক একই ভাবে দেখবেন সামনে বৈশাখের শুভেচ্ছা জানাবে তারা। সবই প্রয়োজনে।
পহেলা বৈশাখের রীতি এই দেশের মানুষের সাথে লম্বা সুদীর্ঘ সময় থেকে আছে। সময়ের সাথে সাথে পহেলা বৈশাখ পালনের রীতি বদলাবে। ১০০ বছর আগে যেভাবে বৈশাখ পালন হত আজকে হুবাহু সেই ভাবে হয় না, ঠিক একই ভাবে আজ থেকে ১০০ বছর পরেও একই ভাবে বর্ষবরণের উৎসব পালন হবে না। কিছু যোগ হবে কিছু বাদ চলে যাবে। এইভাবেই সংস্কৃতিগুলো আমাদের মানুষে টিকে থাকে।
সবাইকে আবারও পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা। নতুন বছর ভাল কাটুক এই কামনা করি।

Comments
Post a Comment