বিএনপির আজকের যা অবস্থা তার জন্য খোদ বিএনপি ছাড়া আর কোন কেউ কি দায়ী? রাজনৈতিক অদূরদর্শী একটা দল আমাদের দেশের প্রধান বিরোধী পক্ষ, এর থেকে আফসোসের কথা আর কী হতে পারে ।
৯৬ সালের একতরফা নির্বাচন করে বিএনপির সরকার টিকেছিল দেড় মাস । গায়ের জোরে ভোট করে তারা টিকতে চেয়েছিল বটে, কাজ হয় নি। বিএনপির এটা বোঝা উচিৎ ছিল যে তারা আওয়ামীলীগের সাথে রাস্তার আন্দোলন করে পারবে না । তাদের আসলে সেই ক্ষমতা নেই । শক্তিতে এবং বুদ্ধিতে কোনটাতেই ! তাই অবৈধ বা অন্যায় কিছু করে তারা কখনই পার পাবে না ।
কোন ভাবে যদি নিজেদের পছন্দের কাউকে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা যায় তাহলে নিশ্চিত ভাবেই নির্বাচণে সুবিধা পাওয়া যাবে । তেমন একজন ছিলেন বিচারপতি কে এম হাসান। তার প্রধান বিচারপতির মেয়াদ শেষ হয় ২০০৪ সালে । এরপর প্রধান বিচারপতি হন সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন। নিয়মমতে, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৮ ফেরুয়ারি ২০০৫ সালে । খুব স্বাভাবিক ভাবেই তারই হওয়ার কথা ছিল তত্ত্বাবোধায়ক সরকারের প্রধান । যদি এই স্বাভাবিক নিয়মটা চলতো তখন আজকে আমরা যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভেতরে আছি তেমনটা সম্ভবত থাকতাম না ।
কিন্তু ঐ যে বললাম ক্ষমতার লোভ ! বিএনপি সরকার কী করলো ? তারা সংবিধান সংশোধন করে প্রধান বিচারপতিদের অবসরে যাওয়ার সময় সীমা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করলো । মনে হতে পারে এতে আবার ঝামেলা হল কি ! ঝামেলা হচ্ছে এই বয়স বৃদ্ধির ফলে বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেনের মেয়াদ শেষ হয় ২০০৭ সালে । অর্থ্যাৎ সর্বশেষ অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি হন কে?
ঐ যে বিএনপির পছন্দের !
সর্বশেষ অবসর প্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবে এমনই নিয়ম !
এই যে চাল টা তা চালল, এই জুয়া খেলল যদি এটা সফল হয়ে যেত তাহলে আরেক টার্মে তারা সরকারে থাকতো ।
কিন্তু সেটা হিতে যে বিপরীত হতে পারে সেই ক্যালকুলেশন কি তারা করে নি?
বিএনপি কি জানতো না আওয়ামীলীগ এটা মানবে না? (কেন কে এম হাসানে আওয়ামীলীগের আপত্তি ছিল সেটা সবার জানা উচিৎ । না জানা থাকলে গুগল করতে পারেন । এখানে কেবল একটা কারণ বলি । সে ছিল বঙ্গবন্ধুর খুনীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়)
জানতো । বিএনপি জানতো আওয়ামীলীগ প্রতিরোধ করবে। তাদের ধারণা ছিল সেটা তারা সামলে দিতে পারবে ।
তাদের কিন্তু অতীতে অভিজ্ঞতা ছিল। আওয়ামীলীগের অন্দোলনের মুখে তারা টিকতে পারে নি । এই অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তারা সাবধান হয় নি। কিংবা হিসাবে ভুল করেছে । ফল তো আজকে হাতেই দেখা যাচ্ছে । বিএনপির আজকের যা পরিনতি এর জন্য সে নিজের দায়ী । অন্য কেউ নয় ।
সত্যিই কেবল সেই সময়ে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী যদি না আনা হত, তাহলে আওয়ামীলীগ কি আন্দোলন শুরু করতো? আন্দোলন করার কোন অযুহাত কি পেত? সেই দুই বছর কি জরুরী অবস্থা ডাকার কোন দরকার পড়তো?
বিএনপির জন্য আমার কখনই কোন সহানুভূতি জন্মে নি ।
এই দেখেন তাদের নেতা তারেক মিয়া ! সেই লন্ডনে বসে আছে আর অনলাইনে ভিডিও বার্তা দিয়ে বলতেছে তোমরা আন্দোলন কর, আমি আছি এখানে !
আরে বেটা একটা দলের নেতা যদি দেশেই না থাকে সে কিভাবে নেতৃত্ব দিবে?
এই নেতৃত্বের কোন দাম আছে?
হ্যা দেশে আসলে তাকে জেলে ভরা হবে !
তো হোক! নেতা কর্মী যখন দেখবে তাদের নেতা তাদের জন্য জেলে গেছে তখনই না তারা জান প্রাণ লাগিয়ে আন্দোলন করবে । কিন্তু যেখানে তারা দেখছে নেতা সাহেব লন্ডনে বসে আরাম করছে আর পুলিশের গুলি খেয়ে মরছি আমরা, সেই নেতার জন্য মানুষ জান দিবে?
বিএনপি এখন আসলে কীভাবে সরকার পতন ঘটাবে সেটা এখনও বুঝতে পারছি না । এখনও পর্যন্ত বিএনপি যতগুলো জনসভা করেছে, তা করার জন্য সে পুলিশের কাছে আবেদন করেছে । ব্যাপারটা আপনাদের কাছে কতটা হাস্যকর মনে হচ্ছে সেটা আমি জানি না তবে আবার কাছে তো মনে হচ্ছে। সরকারের আবেদন করে জনসভা করে সেই জন সভার মাধ্যমে সরকার পতন ?
বিএনপি কি বুঝতে পারছে না যে এঈ হরতাল আর অবরোধ দিয়ে সরকার পতন ঘটানো যাবে না। ১৩/১৪ সালে তারা কি কম হরতাল দিয়েছে ? কোন কি লাভ হয়েছে? কোন সমাধান করতে পেরেছে ?
তাদের মনভাব হচ্ছে তারা এভাবে কয়েকটা হরতাল আর অবরোধ দিবে তারপর সরকার নেমে যাবে! ১৩/১৪ সালে কি তেমন কিছু হয়েছে? আবারও অতীত থেকে কোন শিক্ষা তারা গ্রহন নেয় নি । আমার মাঝে মাঝে বিএনপির লোকজনের কাছে জানতে ইচ্ছে করে আসলে তাদের এই অবরোধ আর হরতাল দেওয়া ছাড়া আর কোন পরিকল্পনা কি আছে ?
এদের কাজ কর্ম আমার কাছে শাহবাগ আন্দোলন যখন ইরমান সরকার টেকওভার করলো তারপরের অবস্থার মত মনে হচ্ছে । কোন কাজ নেই, কোন উদ্দেশ্য নেই আজকে বেলুন উৎস কাল পিঠা উৎস পরের মশাল উৎসব । দিনের পর দিন এইসবই ।
হরতাল অবরোধ দিলে সরকারের কিছুই যায় না । সত্যি আসে না । হরতালে ফলে কেবল ভুক্তোভোগী হয় কিছু শ্রেনীর মানুষ ।
তাদের কি আলাদা কোন পরিকল্পনা রয়েছে?
দয়া করে এই লেখাকে আওয়ামীলীগের কাজ কর্মের সাফাই হিসাবে দেখবেন না । এটা কেবল আমাদের পেয়ারে বিএনপির করা কাজের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য লেখা । আওয়ামীলীগ হাজারটা অন্যায় করলে যেমন বিএনপির অন্যায় জাস্টিফাইড হয়ে যায় না তেমন ভাবে বিএনপির অন্যায়ে আওয়ামীলীগ দায় মুক্তি পায় না ।

Comments
Post a Comment